প্রিয় ঋতু,
বহুদিন পর হোয়াটসঅ্যাপে তোমাকে লিখতে বসলাম। এর আগে ফেসবুক, ভাইবার, ইমো—প্রতিটা অ্যাপে তোমাকে মেসেজ পাঠানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু সবখানেই তুমি আমাকে ব্লক করে রেখেছ। একমাত্র হোয়াটসঅ্যাপেই তুমি আমাকে ব্লক করোনি, হয়তো মনের ভুলে। তবে তোমার এই ভুল আমার জীবনে ফুল হয়ে এসেছে। এই ভুলের সুযোগ নিয়ে আজ আমি তোমার সব ভুল ভেঙে দেব। আজ আমি লিখব, মন খুলে লিখব।
তোমার সঙ্গে ব্রেকআপের দিনটার কথা আজও আমার চোখে ভাসে। সেদিন তুমি আমার জন্য নিজের হাতে গরম গরম চটপটি বানিয়ে এনেছিলে। আর সেই চটপটি আমি নিজের হাতে চেটেপুটে খেয়েছিলাম। খাওয়া শেষ হতে না-হতেই আকাশে গুড়গুড় মেঘের শব্দ শোনা গেল।
আমি তাড়াহুড়ো করে বললাম, ‘অ্যাই, তাড়াতাড়ি চলো, বাসায় যাই। খুব মেঘ করেছে, বাদল কখন যাবে টুটি। এখন রওনা না দিলে ভিজে হব রুটি।’
‘আরে! খটখটা রোদের মধ্যে মেঘের ডাক শুনতে পেলে কোথায়?’ তুমি অপার বিস্ময়ে জানতে চাইলে।
আমি উত্তরে কিছু বলতে যাব তখনই আবার মেঘের গুড়গুড় আওয়াজ শুনতে পেলাম। সঙ্গে সঙ্গে মেরুদণ্ড বেয়ে ভয়ের শীতল স্রোত নেমে গেল। আমি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম, ডাকটা আকাশ থেকে নয়, আমার পেটের ভেতর থেকে আসছে। ঠিক সেই মূহূর্তে তোমাকে কিছু না বলেই আমি ত্বরিতগতিতে বাসার দিকে রওনা দিলাম। আমার পেটের ভেতর তখন সাক্ষাৎ কবি নজরুল ভর করেছেন। ‘আমি সেই দিন হব শান্ত’—এই কবিতাটা আওড়াতে আওড়াতে কোনোমতে বাসায় এসে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিলাম, একটা নির্দিষ্ট সময় পরপর। এভাবে সাড়া দিতে দিতে কখন যে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে গেলাম, সেটা আমারও জানা নেই।
তোমার চটপটির ওপর সেদিন আমার খুব অভিমান হয়েছিল। তাই রাগ করে তোমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলাম। খুব কষ্টে কাটছিল দিনগুলো। সেই কষ্টের সময়গুলোতে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল লিজা। লিজা আমাকে খুব ভালোবাসত। বিশ্বাস করো, আমি কিন্তু ওকে একটুও ভালোবাসিনি। আমি শুধু ভালোবেসেছি তোমায়। এখনো তেমনটাই বাসি।
কিন্তু তুমি আমাকে ভুল বুঝলে। তোমার এই ভুল বোঝার পেছনে সবচেয়ে বড় একটি কারণ ছিল, আমি তোমার কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নিয়েছিলাম। তুমি ভেবেছ, আমি তোমার টাকা নিয়ে ভেগেছি। কিন্তু তুমি এটা ভাবোনি, সামান্য কিছু টাকার জন্য তোমার মতো এত চমৎকার একটা মেয়েকে কেউ হাতছাড়া করবে না। যেমনটা করেনি তোমার হাজেবন্ড। আমাদের দূরত্বের সুযোগ নিয়ে সে কিন্তু ঠিকই তোমাকে বিয়ে করে ফেলল। একেবারে খাঁটি ধান্দাবাজ বলতে যা বোঝায় আরকি।
যাহোক, তোমার বিয়ের পর নিজেকে সামলাতে অনেক কষ্ট হয়েছে আমার, তবু সামলে নিয়েছি। এখন আমার চাওয়া একটাই—তোমার সুখ। আমি চাই, তুমি সবাইকে নিয়ে সুখী হও। তোমার মা, বাবা, ভাইয়া, ছোট চাচা…আচ্ছা ভালো কথা, তোমার ছোট চাচা না বিসিবিতে চাকরি করেন? তিনি কি বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচের দুটো টিকিট জোগাড় করে দিতে পারবেন? স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখলে তোমাকে হারানোর ব্যথা খানিকটা হলেও কমবে।
ভালো থেকো অনেক। আর টিকিটের ব্যবস্থা হলে একটু জানিয়ো প্লিজ।
তোমার ধান্দাবাজ হাজবেন্ডের জন্য অনেক আদর এবং তোমার জন্য ভালোবাসা।
ইতি
তুহিন
ঋতুর রিপ্লাই
তুই আগে থেকেই ধান্দাবাজ ছিলি এবং এখনো আছিস। আমার এটা বুঝতে একটু দেরি হয়েছে, এই যা। আর শোন, আমার ছোট চাচা বিসিবির চাকরি ছেড়ে এখন র্যাবে যোগ দিয়েছেন। তোর কাছে যে টাকা পাই তা সামনের এক মাসের ভেতর শোধ করবি, না হলে ছোট চাচার কাছে তোকে ধরিয়ে দেব। মনে রাখিস, সময় এক মাস মাত্র!
by.... Md Anik Khandakar
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন